প্রথমবারের মতো সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে এএসআই পদে ২০০০ জন নিয়োগ দিচ্ছে পুলিশ
বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই-নিরস্ত্র) পদে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়োগ কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে।
এতদিন এএসআই (নিরস্ত্র) পদটি মূলত কনস্টেবলদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। তবে এবার সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও পদটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষিত ও যোগ্য প্রার্থীরা সরাসরি এই পদে আবেদন ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এএসআই (নিরস্ত্র) পদে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল গত ২৮ এপ্রিল এবং আবেদন জমার সময়সীমা শেষ হয়েছে ২৭ মে। নির্বাচিত প্রার্থীরা জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড-১৪ অনুযায়ী ১০,২০০ থেকে ২৪,৬৮০ টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণকালীন সময়ে সরকারি বিধি অনুসারে ভাতা প্রদান করা হবে।
এবারের নিয়োগে মোট ২ হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে এবং ৭ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার মাধ্যমে পূরণ করা হবে। কোটার আওতায় মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক পদসংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে ঢাকা জেলায়, ১৬৭টি। চট্টগ্রামে রয়েছে ১০৬টি, কুমিল্লায় ৭৫টি, ময়মনসিংহে ৭১টি এবং সিলেটে ৪৮টি পদ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম শূন্য পদ রয়েছে বান্দরবান জেলায়, মাত্র ৫টি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক অপরাধ মোকাবিলা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক ও তদন্ত কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরাসরি এএসআই নিয়োগের এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে দক্ষ ও যোগ্য জনবল পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত হবে।
তবে নতুন এই নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে বাহিনীর ভেতরে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে অনেক কনস্টেবল মনে করছেন, সরাসরি নিয়োগ চালুর ফলে পদোন্নতির সুযোগ কিছুটা সীমিত হতে পারে। যদিও নীতিনির্ধারকদের মতে, পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই জনবল ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হবে।
বিস্তারিত তথ্য জানতে বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট দেখুন।
প্রতি / এডি / শাআ













